নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 197 বার পঠিত

বাংলাদেশে একজন নাগরিকের প্রতিদিনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় সড়ক পরিবহনে অতিবাহিত হয়। যখন যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যানবাহন, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং চালক ও যাত্রী প্রসঙ্গে রয়েছে নানান প্রশ্ন; ঠিক তখনই ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’ এমন সময়োপযোগী প্রতিপাদ্য নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে ‘নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৫’ উদযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্যান্য পরিবহনে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর চেয়ে মোটরসাইকেলে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশই মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান এবং আহতদেরও দীর্ঘমেয়াদি ভুগতে হয়। সে বিবেচনায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রতিপাদ্যটি যথাযথ। যদিও শুধু হেলমেট দুর্ঘটনা রোধে যথেষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতির জন্য শুধু রাষ্ট্র দায়ী নয়; আমাদের মানসিকতা এবং অসচেতনতাও অনেকাংশে দায়ী।
আমাদের ঘনবসতি ও অত্যধিক জনসংখ্যা, আইন মেনে না চলার প্রবণতা এ ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা। যে গাড়ি ফার্মগেটে খামখেয়ালি চলছে কিংবা যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করছে, সে গাড়িটি জাহাঙ্গীর গেটে সিরিয়াল মেনে চলছে।
ফিটনেসবিহীন গাড়ির কালো ধোঁয়ায় মানুষ ও প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীন হর্নের শব্দদূষণে বধির হচ্ছে অগণিত মানুষ। বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যৌথ অপ্রতিরোধ্য বিকাশ ঘটছে। ‘মহাসড়ক আইন, ২০২১’-এর ৪.১৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, জনস্বার্থে ইন্টিলেন্স ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস), টোল সংক্রান্ত অবকাঠামোসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, সংরক্ষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালনা করা। আইটিএসের মাধ্যমে উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অধিকতর নিরাপদ, সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য যান ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আইটিএস স্মার্ট পরিবহন ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি সেবার জন্য সিগন্যাল পাওয়া এবং ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে গাড়ির স্পিড নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিভিন্ন ক্যাটেগরির পরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে লেন নির্ধারণ করা এবং তা বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যকীয়। এ পদ্ধতিতে উন্নত রাষ্ট্রগুলো ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিপ্লব ঘটিয়েছে, যা অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অন্যতম সমাধান হতে পারে। এটিই আশার জায়গা। এ ছাড়া সড়ক নিরাপদ করতে আইনকানুনের পাশাপাশি আমাদের অনেক কিছু করণীয় আছে।
এখনও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটেরিকশা অহরহ চলছে। অযৌক্তিক ওভারটেক, অনিয়ন্ত্রিত গতি দুর্ঘটনার কারণ। এ ছাড়া সড়ক-মহাসড়কে রাস্তা দখল করে গাড়ি রাখার প্রবণতা ক্রমবর্ধমান। ঈদ কিংবা বড় কোনো উৎসবে আসনের তুলনায় যাত্রী থাকে অনিয়ন্ত্রিত এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় বহু। এতে আনন্দের পরিবর্তে তাজা প্রাণের বাড়ি ফিরতে হয় লাশ হয়ে।
সড়কে অনিয়মই যেন আমাদের কাছে নিয়মে পরিণত হয়েছে। এটি অসচেতনতা, অবহেলা আর অবজ্ঞার নামান্তর। এ কারণে অনেক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা ঘটে। একটি তাজা প্রাণ হারানোর কষ্টে পরিবারকে সারাজীবন কান্না বয়ে চলতে হয়। আমরা কোনোভাবেই এ দায় এড়াতে পারি না। শিক্ষা কারিকুলামের প্রতিটি স্তরের পাঠ্যপুস্তকে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতনতামূলক বিষয়গুলোর ওপর অধিকতর জোর দেওয়া জরুরি। বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং তা মেনে চলা প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী তথা নাগরিকের দায়িত্ব।
আশার বিষয় হচ্ছে, জাতিসংঘ স্বীকৃত বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় বিজ্ঞানভিত্তিক রোড ব্যবস্থাপনা ‘রোড সেফটি প্রকল্প’-এর মাধ্যমে সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচের আলোকে মাল্টিমডেল ট্রান্সপোর্টেশন, নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যানবাহন-সংক্রান্ত পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ।
Posted ৩:৫২ পিএম | শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।